অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করে কিভাবে সাফল্য অর্জন করবেন ২০২৫

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং কি? আপনি কি অনলাইন থেকে নির্ভরযোগ্য এবং দীর্ঘস্থায়ী ইনকামের পথ খুজছেন? তাহলে আপনি সঠিক যায়গায় এসেছেন। বর্তমান বিশ্বে সবছেয়ে জনপ্রিয় এবং নির্ভরযোগ্য ইনকামের পথ হলো অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং। অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর মাধ্যমে খুব সহজেই টাকা ইনকাম করা যায়। অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং কি ও কিভাবে কাজ করে নিচে সুন্দর করে বর্ণিত করে দেওয়া হলো।

আপনি চাইলে ঘরে বসে থেকেই ব্লক কনটেন্ট এর মাধ্যমে অথবা সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এর মাধ্যমে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করে মাধ্যমে টাকা ইনকাম করতে পারেন। 



 
এই আর্টিকেলটির মাধ্যমে আপনার অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর স্বপ্নটি সত্যি হতে পারে। বর্তমান বিশ্বে এফিলেট মার্কেটিং এর মাধ্যমে টাকা ইনকাম করা খুবই সহজ।

পেজ সূচিপত্রঃ অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করে কিভাবে সাফল্য অর্জন করবেন ২০২৫

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং আসলে কি এবং এটি কিভাবে কাজ করে

কোন কোম্পানি বা ব্রান্ডের প্রোডাক্ট সমূহ আপনি প্রচার-প্রচারণা করে বিক্রি করে দিলে সেই কোম্পানি আপনাকে যে কমিশন দিয়ে থাকে মূলত এটাকে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং বলে। আরো সহজ ভাষায় বোঝাতে গেলে কোন কোম্পানির পণ্য আপনি সুপারিশ করে তাদের বিক্রি আপনি বাড়িয়ে দিচ্ছেন এতে করে ওই কোম্পানি আপনাকে কমিশন দিচ্ছে মূলত এটাকেই বলে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং।

মূলত এটাই অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর মূল ধারণা। আপনি অন্যের প্রোডাক্ট বা সার্ভিস সমূহ অনলাইনে প্রমোট করছেন, এবং আপনার প্রমোশনের মাধ্যমে যখন বিক্রি হচ্ছে তখন ওই বিক্রির উপর নির্ভর করে আপনি একটা কমিশন পাচ্ছেন।

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর মূল ভিত্তি

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং মূলত চারটি বিষয়ের বিলং করেঃ
১. মার্চেন্টঃ যেখানে প্রোডাক্ট সমূহ তৈরি হয়। যেমন-amazon, daraj আরও অন্যান্য।
২. অ্যাফিলিয়েটঃ এটা মূলত আপনি। মার্চেন্টের প্রোডাক্ট গুলো সাধারণত আপনি আপনার সোশ্যাল মিডিয়া ব্লকের মাধ্যমে শেয়ার করে থাকেন।
৩. ক্রেতাঃ যিনি আপনাদের লিংকে ক্লিক করে প্রোডাক সমূহ কিনবেন।
৪. অ্যাফিলিয়েট নেটওয়ার্কঃ যেখানে মার্চেন্ট ও এফিলেট এর মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন হয়।

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর জনপ্রিয়তার কারণ

আমার মতে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এত জনপ্রিয় হবার কারণ হলো এখানে বিনা ঝুঁকি এবং বিনা বিনিয়োগে আপনি চাইলে বসে থেকে ইনকাম করতে পারেন। শুধুমাত্র আপনার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এবং আপনার ব্লক কনটেন্ট এর মাধ্যমে অ্যাফিলিয়েট লিংক শেয়ার করে আপনি অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং শুরু করতে পারেন।

আপনি চাইলে পৃথিবীর যেকোন প্রান্ত থেকে মোবাইল ফোন বা ল্যাপটপ দিয়ে এফিলেট মার্কেটিং করতে পারেন। এখানে কাজের অনেক স্বাধীনতা রয়েছে যেমন আপনি চাইলে যে কোন প্রোডাক্ট নিয়ে কাজ করতে পারেন যে কোন সার্ভিস নিয়ে কাজ করতে পারেন। নতুনদের জন্য এটি একটি উত্তম মাধ্যম। কারণ আপনি কাজ শেখার সময় থেকে শুরু করে আপনি প্যাসিভ ইনকাম শুরু করতে পারেন, যেখানে রয়েছে সীমাহীন আয়ের সুযোগ।

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করে কিভাবে সাফল্য অর্জন করবেন

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর মাধ্যমে আপনি আপনার অনলাইন ইনকামের স্বপ্নকে সত্যি করতে পারবেন। আপনি যে কোন একটা এক্স্যাক্ট নিশ সিলেক্ট করে, আপনার ব্লগ কনটেন্ট এ ব্লক লেখা শুরু করবেন। এবং ওই সেম নিশ নিয়ে আপনি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় একাউন্ট ক্রিয়েট করে বিভিন্ন ভিডিও পোস্ট শেয়ার করবেন। এবং এই প্লাটফর্ম গুলোতে এবং ব্লক কনটেন্ট এর মধ্যে আপনি আপনার অ্যাফিলিয়েট লিঙ্ক প্রচার করবেন। আর যখন কোন প্রোডাক্ট নিয়ে ওটার সুপারিশ করবেন ঐ প্রোডাক্ট নিয়ে ভালো দিকগুলোও তুলে ধরবেন এবং খারাপ দিক গুলও তুলে ধরবেন।


এভাবে ক্রেতার কাছে আপনি বিশ্বস্ত হয়ে উঠবেন। তখন ভিজিটররা আপনার প্রোডাক্টের উপরে ভরসা পাবে এবং সেখান থেকে অনেক বেশি বেশি কেনা শুরু করবে। যাতে করে আপনি লাভবান হবেন।

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর জন্য সঠিক নিশ নির্বাচন

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর জগতে নিশ একটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে থাকে। নিশ বলতে বোঝায় আপনি যে বিষয় নিয়ে বা যেই প্রোডাক্ট নিয়ে যে সার্ভিস সমূহ নিয়ে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করবেন। আপনি যদি সুস্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করতে চান তাইলে সুস্থকর খাবার একটি নিশ। এখানে অবশ্যই যেটি আপনার ভালো লাগবে আপনার পছন্দ অনুযায়ী আপনি নিশ সিলেক্ট করবেন। কারণ একটি বিষয় নিয়ে আপনাকে অনেকদিন পর্যন্ত লিখে যেতে হবে, এক্ষেত্রে আপনার ধৈর্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ তাই আপনার যেটি পছন্দ হয় এ বিষয় নিয়ে আপনি নিশ সিলেট করবেন। 

কিছু লাভজনক অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং নিশ

যে নিশে আপনার আগ্রহ থাকবে আপনাকে সেই নিশ টিই সিলেক্ট করতে হবে এবং ভিজিটরদের চাহিদা আপনাকে বুঝতে হবে যে ক্রেতারা কোন বিষয়ে টাকা খরচ করতে ইচ্ছুক আপনাকে এরকম রিলেটেড বিষয় নিয়ে নিশ সিলেক্ট করতে হবে। সচরাচর ক্রেতারা তাদের সমস্যার সমাধান যেখানে খুঁজে পাই সেখানে টাকা খরচ করে বেশি। এক্ষেত্রে আপনাকে খেয়াল রাখতে হবে যে আপনার মিস কি মানুষের সমস্যার সমাধান কিনা?

যখন আপনি মানুষের সমস্যার সমাধান দেওয়া শুরু করবেন তখন মানুষ এমনিতেই আপনার সুপারিশ করা প্রোডাক্ট সমূহ বা সার্ভিসসমূহ ক্রয় করা শুরু করবে যাতে করে আপনার বেনিফিট হবে বেশি।

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর উৎস

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর জন্য কিছু কিছু জনপ্রিয় উৎস রয়েছে। জেমনঃ
১. Amazon Associates: এটি পৃথিবীর সবচেয়ে বড় এফিলেট মার্কেটিং প্রোগ্রাম এর উৎস। অ্যামাজনের প্রতি মানুষের অগাধ বিশ্বাস থাকায় মানুষজন এখান থেকে অনেক জিনিস কিনে থাকে।
২. Daraj Affiliate Program: বাংলাদেশের জন্য সেরা এপিলের প্রোগ্রাম হল দারাজ। বলতে গেলে বাংলাদেশের মানুষদের প্রায় মুখে মুখে হয়ে গেছে এ দারাজ এফিলেট প্রোগ্রাম। এখান থেকে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর কাজ করলে অনেক ভালো লাভবান হওয়া যাবে বাংলাদেশীদের ক্ষেত্রে।
৩. ShareAsale: এখানে নানা ধরনের মার্চেন্টের প্রোডাক্ট পাওয়া যায় যেগুলোর মাধ্যমে আমরা অনায়াসে এফিলেট মার্কেটিং খুব সহজেই চালিয়ে যেতে পারি।

উপরের উৎসগুলো থেকে আমরা এফিলিয়েট মার্কেটিং করে অনেক অর্থ আয় করতে পারি। amazon associates থেকে মানুষ প্রচুর পরিমাণে প্রোডাক্ট বা সার্ভিস সমূহ ক্রয় করে থাকে এখানকার অ্যাফিলিয়েট রেট তুলনামূলক কম হলেও মানুষ এখান থেকে প্রচুর পরিমাণে পণ্য ক্রয়ের জন্য এখানে থেকে লাভ এর পরিমাণটা বেশি হয়।

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং প্রচার করার সেরা মাধ্যম সমূহ

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং প্রচার করার জন্য কিছু কিছু সেরা মাধ্যম রয়েছে। যেগুলো হলোঃ
  • ব্লগ কন্টেন্ট
  • ফেসবুক
  • ইউটিউব
  • ইনস্টাগ্রাম
  • ইমেইল মার্কেটিং
উপরোক্ত মাধ্যমগুলোর মাধ্যমে খুবই চমৎকারভাবে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করা যায়। ব্লক কনটেন্ট এর মধ্যে আপনি আপনার অ্যাফিলিয়েট লিংক দিয়ে প্রোডাক্টের প্রচার করতে পারেন। এক্ষেত্রে বিশ্বাসের জায়গাটা বেশি মজবুত হবে কারণ ব্লগ কন্টেন সম্পূর্ণ নিজস্ব হয়। এজন্য মানুষ আপনার প্রতি বিশ্বাস রাখবে বেশি। ফেসবুক, ইউটিউব, ইনস্টাগ্রাম এরুপ বিভিন্ন সোশ্যাল প্লাটফর্মের মাধ্যমেও আপনি আপনার অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রাম চালায় যেতে পারেন। আপনি যদি মুখে কথা বলে ভিডিও বানাইতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন সে ক্ষেত্রে ইউটিউব-ফেসবুকে ভিডিও আপলোডের মাধ্যমে আপনি প্রোডাক্ট রিভিউ দিতে পারবেন সে ক্ষেত্রে ভিজিটর বা ক্রেতাদের পণ্য ক্রয় করার প্রতি আগ্রহ টা বেশি হবে।

ব্লগ কন্টেন্ট লিখে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করার নিয়ম

আপনি কি ব্লগ কনটেন্ট লিখে প্যাসিভ ইনকাম করতে চান। তাহলে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং আপনার জন্যই। যেহেতু ফেসবুক ইউটিউব এর মতন ব্লগার ওয়েবসাইট নয়, কেননা ব্লক কনটেন্ট এর মালিকানা কেবল আপনি নিজেই। সুতরাং এখানে মানুষের বিশ্বাসের মাত্রাটা অত্যাধিক। আপনি যদি ভালো ব্লগ লিখেন এবং সেখানে একটা প্রোডাক্ট বা সার্ভিসের সুপারিশ ভালো মতন করতে পারেন সে ক্ষেত্রে ভিজিটর বা ক্রেতাদের ক্রয়ের হারও বৃদ্ধি পাবে এক্ষেত্রে আপনি কমিশনটাও বেশি পাবেন।


অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর জন্য পার্সোনাল ব্লগার ওয়েবসাইট থাকা অতীব জরুরী। কেননা অধিকাংশ ভিজিটর এখান থেকে আসে। আপনি যদি আপনার ব্লগে প্রোডাক্টের ভালো দিক এবং খারাপ দিক উভয় দিক ভাল মতন ক্রেতাদের কাছে তুলে ধরতে পারে সে ক্ষেত্রে আপনার সেলটা অনেক বেশি পরিমাণে আসবে। ক্রেতা বা ভিজিটর আপনার প্রোডাক্ট বা সার্ভিস সমূহ তখনই ক্রয় করবে যখন আপনি ক্রেতা বা ভিজিটরদের কোন সমস্যার সমাধান দিতে পারবেন। একটা কথা মাথায় রাখবেন মানুষ সেখানেই টাকা খরচ করে যেখানে তারা তাদের সমস্যার সমাধান খুঁজে পায়।

কিভাবে ভিজিটর কে ক্রেতায় পরিণত করবেন

একজন ভিজিটর তখনই ক্রেতায় পরিণত হবে যখন আপনি তার সমস্যার সমাধান করবেন। একজন মানুষ তখনই টাকা খরচ করে যখন তার নিজস্ব কোন সমস্যার সমাধান বা তার জীবন সহজ হচ্ছে আমন কিছু সে পেয়ে যায়। তো আপনাকে খেয়াল রাখতে হবে যে আপনি মানুষের সমস্যার সমাধান করতে পারছেন কিনা। আপনি সরাসরি অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রামটা মার্কেটিং করবেন না তাতে করে ক্রেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ হবে না।

আপনি বরং প্রথমে ক্রেতাদের সমস্যার সমাধান করার চেষ্টা করবেন এবং এই সুযোগে তাদের সমস্যার সমাধান দিয়ে তাদেরকে প্রোডাক্ট এর সুবিধা গুলা দেখিয়ে তাদের ভিজিটর থেকে ক্রেতায় পরিনত করবেন। এতে করে আপনার অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং অনেক বেশি উচ্চ শিখরে পৌঁছাবে।

শেষ কথা (অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করে কিভাবে সাফল্য অর্জন করবেন ২০২৫)

উপরের ব্লগটি পড়ে আমরা বুঝলাম অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করে কিভাবে আয় করা যায়। যার জন্য প্রয়োজন সঠিক নিশ নির্বাচন, প্লাটফর্ম তৈর, ব্লগ কন্টেন্ট প্রস্তুতি এবং যেটা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন সেটা হল ধৈর্য। রাতারাতি সাফল্যের আশা না করে আমরা যদি ধৈর্য সহকারে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করতে পারি তাহলে অবশ্যই সাফল্য আসবে।

উপরে দেখানো সঠিক নিয়ম অনুযায়ী আমরা যদি অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রামটা রান করাতে পারলে আমরা অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করে প্রতি মাসে একটা প্যাসিভ ইনকাম করতে পারব। পরিশ্রম যত বেশি করবেন ইনকামও তত বেশি হবে। উপরের ব্লগটি ভালো লাগলে অবশ্যই নিচে মন্তব্য করতে ভুলবেন না। ধন্যবাদ।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

জীবন মিডিয়ার নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url

Md. Fashiur Rahman Jibon
Md. Fashiur Rahman Jibon
একজন ডিজিটাল মার্কেটিং এক্সপার্ট ও জীবন মিডিয়া ব্লগের এডমিন। তিনি অনলাইন ইনকাম, ব্লগিং, SEO ও টেকনোলজি নিয়ে নিয়মিত লেখালেখি করেন। ৫ বছরের অভিজ্ঞতায় তিনি শিক্ষার্থীদের অনলাইনে সফল হতে সহায়তা করে যাচ্ছেন।